শবে বরাত কবে ২০২৩? শবে বরাতের গুরুত্ব, তাৎপর্য, ইবাদত ও ফজিলত ২০২৩

শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে শবে বরাত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ সাতেই মার্চ রোজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শবে বরাত। শবে বরাতের রাতে আল্লাহ তা’লার বান্দারা যা চাইবে আল্লাহ তা’লা তা পূরণ করে দেবে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমারা তোমাদের চাওয়া-পাওয়া এবং মনের ইচ্ছা অনিচ্ছা সকল কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরবে, আল্লাহ তা’লা তোমাদের মনের আশা পূরণ করে দেবে। আমাদের প্রতিটি মুসলমানের কাছে শবে বরাতের রাতে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত।

অনেকে আছে শবে বরাত নিয়ে জানার জন্য গুগলে অনুসন্ধান করে থাকেন। শবে বরাত এই মাসে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ একটি মাস। আল্লাহ তা’লা পবিত্র শাবান মাসে তার সৃষ্টির দৃষ্টিপাত শুরু করেন। আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন ২০২৩ সালের শবে বরাত কবে এবং শবে বরাতের ইবাদত ও ফজিলত সম্পর্কে। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। নিচে শবে বরাত কবে তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো।

শবে বরাত কবে ২০২৩

১৪৪৪ হিজরি সনের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আকাশে শাবান মাসের চাঁদ দেখা দিয়েছে। ৭ এই মার্চ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শবে বরাত হয়ে থাকে। অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ এবং ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে শবে বেরাত হয়ে থাকে। পবিত্র শবে বরাতের এই রাত্রিতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তার বান্দার সকল নেক আশা পূরণ করে দেয়। শবে বরাত ফজিলতপূর্ণ রাতে মহান আল্লাহ তা’লা তার বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের রাত হিসেবে শাবান মাসের ১৪ এবং ১৫ মধ্যবর্তী রাতকে বলা হয়।

শবে বরাত এর অর্থ কি

শবে বরাতকে আরবিতে লায়লাতুল কদর বলা হয়ে থাকে। শবে বরাতের ফারসি শব্দ হচ্ছে, শবে অর্থ হচ্ছে রাত, এবং বরাত শব্দের অর্থ হচ্ছে সৌভাগ্য। শবে বরাত মানে রমজান মাস আসার আগমনী বার্তা। শবে বরাতের ফজিলত এতই বেশি যে মহান রাব্বুল আলামিন শবে বরাতের রাত্রিতে যারা ক্ষমা চায় তাদেরকে ক্ষমা করে দেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।

শবে বরাতের ইবাদত

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ শবে বরাত অর্থাৎ লাইলাতুল কদরের রাত্রি বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করতেন। অনেকেই আছে শবে বরাতের রাত্রিতে রোজা রাখেন। নামাজ পড়েন এবং বেশি বেশি কোরআন তেলোয়াত আদায় করেন। মহান আল্লাহতা’লা শবে বরাতের রাত্রিতে তার গুনাগার বান্দা দের ক্ষমা করে দেন আমাদের উচিত বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করা। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহর জিকির মগ্ন থাকা।

হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ)এ রাতে মদিনার কবরস্থান ‘জান্নাতুল বাকি’তে এসে মৃতদের জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করতেন। তিনি আরও বলেন, নবীজি (সা.) তাঁকে বলেছেন, এ রাতে বনি কালবের ভেড়া–বকরির পশমের (সংখ্যার পরিমাণের) চেয়েও বেশিসংখ্যক গুনাহগারকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি: ৭৩৯)।

শবে বরাতের ফজিলত

শবে বরাতের রাত্রিতে মহান আল্লাহ তা’লা শেষ আসমানে চলে আসে। এবং আল্লাহ তা’আলা তার প্রিয় বান্দাদের ডেকে বলে তোমরা কে আছ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব। এছাড়াও আল্লাহ তা’লা তার প্রিয় বান্দাদের চাওয়া পাওয়া পূর্ণ করে দেন। তাই আমাদের শবে বরাতের সৌভাগ্য পূর্ণ রাত্রিতে অর্থাৎ লাইলাতুল কদর এর রাত্রিতে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করতে হবে। আল্লাহ তা’লার কাছে আমাদের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) রমজান মাসের পরে শাবান ও রজব মাসে সবথেকে বেশি নফল রোজা আদায় করতেন। নফল রোজার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। লাইলাতুল কদরের রাত মানে পাপ থেকে মুক্তির রাত। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন শাবান মাস প্রত্যেক মাসের থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ একটি মাস। তাই আমাদের শাবান মাসে বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগির করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *