শবে বরাতের নামাজের নিয়ত, আমল, নামাজ ও নফল রোজা রাখার নিয়ম

সারা বিশ্বের প্রত্যেকটি মুসলমানদের জন্য শবেবরাতে রাত্রি হচ্ছে ভাগ্য পরিবর্তনের একটি রাত। শবে বরাতের আরবি শব্দ হচ্ছে লাইলাতুল কদর। প্রত্যেকটি মাসের থেকে অত্যন্ত বরকতময় এবং রহমত পূর্ণ মাস হচ্ছে শাবান মাস। শাবান মাস মাহে রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। আজকে নিবন্ধনে আমি আলোচনা করব শবে বরাতের নামাজের নিয়ত, আমল, নামাজ এবং রোজা রাখার নিয়ম সম্পর্কে। অনেকেই গুগলের শবে বরাতের আমল এবং নামাজ রোজা রাখার নিয়ম সম্পর্কে জানার জন্য অনুসন্ধান করে থাকে। তাদের জন্য আমাদের আজকের এই পোস্টটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শবে মেরাজ এর ১৫ দিন পর শবে বরাত অনুষ্ঠিত হয়। আবার শবে বরাত এর ১৫ দিন পর মাহে রমজান অনুষ্ঠিত হয়। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে শবেবরাত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শবে বরাতের রাত মানে গুনা থেকে মুক্তির রাত। মহান আল্লাহ তা’লা শবে বরাতের রাত্রে নিচের আসমানে চলে আসে। এবং আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের ডেকে বলে তোমরা কে কোথায় আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব।

শবে বরাতের রাত্রিতে মহান আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের উপর রহমত নাযিল করেন। প্রতিটি মুসলমানদের কাছে শবে বরাতের রাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত। চলুন তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে নিচে শবে বরাতের নামাজের নিয়ত আমল নামাজ নফল রোজা রাখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ত

শবে বরাতের নামাজের বাংলা এবং আরবি দুই ভাবেই নিয়ত করা যায়। আপনাদের সুবিধার্থে নিচে শবে বরাতের নামাজের বাংলা এবং আরবি দুই ভাবে নিয়ত উল্লেখ করা হলো।

শবে বরাতের নামাজের বাংলা নিয়ত

আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত শবে বরাতের নফল নামাজ আদায় করিতেছি। আল্লাহু আকবার।

শবে বরাতের নামাজের আরবি নিয়ত

নাওয়াইতুআয়ন উছ ল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাক আতাই ছালাতিত লাইলাতিল বারাতিন নাফ-লি, মুতাওয়া জ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবা তিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম

শবে বরাতের নামাজের নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই। প্রতিদিনের মতোই এশার সালাত আদায় করতে হবে। তারপর শবেবরাতের জন্য দুই রাকাত করে নফল নামাজ আদায় করতে হবে। আপনি আপনার ইচ্ছামত দুই রাকাত দুই রাকাত করে সালাত আদায় করতে পারবেন। আপনি চাইলে ১২ রাকাত কিংবা তারও বেশি নফল নামাজ আদায় করতে পারবেন।

শবে বরাতের নামাজের জন্য প্রথমেই নিয়ত করতে হবে। নিয়ত করার পর আল্লাহু আকবার বলে নামাজে দাঁড়াতে হবে। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে অন্য কোন সূরা মিলিয়ে পড়তে হবে। দুই রাকাত দুই রাকাত করে সালাত আদায় করে সালাম ফেরাতে হবে। এভাবে আপনার ইচ্ছামত ৮ রাকাত ১২ রাকাত বা তারও বেশি সালাত আদায় করতে পারবেন। শবে বরাত এর নফল নামাজের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই।

শবে বরাত নামাজের রোজা রাখার নিয়ম

মার্চ মাসের ৭ তারিখ রাত্রে শবে বরাত পালন করা হয়। শবে বরাতের রাত্রিতে আল্লাহ তা’লার প্রতিটি বান্দায় বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করে থাকে। নফল নামাজের পাশাপাশি নফল রোজা তাই করে থাকে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসের পরে শাবান এবং রজব মাসের সবথেকে বেশি রোজা আদায় করতেন। তাই শাবান মাসে আপনি সবথেকে বেশি রোজা রাখতে পারবেন।

এছাড়াও শাবান মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখ রোজা রাখতে পারবেন। ইংরেজি মাসের ৬, ৭ এবং ৪ তারিখ। রোজা রাখার পাশাপাশি আপনি আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করবেন। এতে আল্লাহ তা’য়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দিবে। শবে বরাতের রোজার অনেক ফজিলত রয়েছে। শবে বরাতের রাত্রিতে নফল ইবাদত করা বেশি প্রয়োজন।

সম্মানিত পাঠক পাঠিকা, আপনাদের জন্য আমাদের এই ওয়েবসাইটে শবে বরাতের নামাজের নিয়ত, আমল, নামাজ ও নফল রোজা রাখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। প্রত্যেক মুসলমান ভাই ও বোনদের জন্য আমাদের আজকের এই পোস্টটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আজকের এই পোষ্টটি থেকে শবে বরাত নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে আপনি শবে বরাত এর ইবাদত করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *