শবে কদরের আমল ও ফজিলত

সম্মানিত পাঠক পাঠিকা, শুরুতেই জানাই সবাইকে আমার সালাম। আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সকলে ভালো আছেন। আমিও আল্লাহ তা’লার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছি। আজকে আমি সকলের মাঝেই নিয়ে এসেছি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। আর এই পোস্টে থাকছে সকলের জন্য শবে কদরের আমল এবং ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। দেখতে দেখতে আমাদের মাঝে ২৭ রমজান অর্থাৎ লাইলাতুল কদরের রাত্রি চলে এসেছে।

তাই যারা শবে কদর অর্থাৎ লাইলাতুল কদর এর বিস্তারিত আমল সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য আজকে আমি আমাদের এই ওয়েবসাইটে বিস্তারিতভাবে শবে কদরের আমল এবং ফজিলত সম্পর্কে তুলে ধরবো। শবে কদর মানে সম্মান মর্যাদা এবং ভাগ্য পরিবর্তনের একটি মহামান্বিত রাত। শবে কদর ফারসি শব্দ। শবে কদরের আরবি হচ্ছে লাইলাতুল কদর। মহান আল্লাহ তা’লা শবে কদরের এই পবিত্র রজনীতে পবিত্র আল কোরআন নাজিল করেছেন।

সকল মাসের থেকে উত্তম মাস হচ্ছে মাহে রমজান। মাহে রমজান এর শবে কদরের রজনী হচ্ছে সবথেকে উত্তম এবং মহামান্বিত রজনীর সকল রাত থেকেও উত্তম একটি রাত। মহান আল্লাহ তা’লা শবে কদরের এই রাত্রে বান্দাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে থাকেন। তাই শবে কদরের রাতকে ভাগ্য পরিবর্তনের রাতে বলা হয়ে থাকে।

শবে কদর রাতের আমল

শবে কদরের রাতে আমাদের সব থেকে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করতে হবে। মনে রাখতে হবে ২১, ২৩,২৫ এবং ২৭ তারিখের মধ্যে যে কোন এক রাতে শবে কদর অনুষ্ঠিত হবে। তাই আমাদের এই রাত গুলো বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করতে হবে। আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করতে হবে। সালাতুল হাজতের নামাজ আদায় করতে হবে। নামাজের রুকু এবং সিজদা দীর্ঘ করতে হবে। সুরা ইয়াসিন, সুরা মুলক, সূরা ওয়াকিয়া, সূরা আর রহমান, সূরা কদর, দরুদ শরীফ এবং বেশি বেশি তসবি তাহলীল পাঠ করতে হবে। আল্লাহর কাছে মোনাজাতে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে মহান আল্লাহ তা’লা ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে পছন্দ করেন।

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমি ওই রাতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন; তুমি বলবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (ইবনে মাজা, সহিহ-আলবানি)

শবে কদর রাতের ফজিলত

শবে কদরের এ রাতে মহান আল্লাহ তা’লা মক্কার হেরা গুহায় হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সাল্লাম এর মাধ্যমে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ওপর পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন নাযিল করেন শবে কদরের এই রাতে। রমজান মাস সর্ব মাসে থেকে উত্তম একটি মাস। কেননা এ মাসে সবথেকে বড় গ্রন্থ আল কুরআন নাযিল হয়েছে। কোরআনের এই সুন্দর সংস্পর্শে লাইলাতুল কদরের এ রাত ভাগ্য অর্জন করেছে।

শবে কদর রাতের ফজিলত আলোচনা করে শেষ করা যাবে না। কেননা কোরআন নাজিলের এই শবে কদরের রাতে আল্লাহ তা’লা প্রত্যেক বান্দাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে থাকেন। বান্দাদের ক্ষমা করে থাকেন এবং মনে নেক আশাগুলো পূরণ করে থাকেন। তাই আমাদের সকলেরই উচিত শবে কদরের এই মহিমান্বিত রাতে বেশি বেশি আমল করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *